মাতৃত্ব সুরক্ষা শুধু একটি সুবিধা নয় – এটি একটি অধিকার, একটি প্রয়োজন এবং #লিঙ্গসমতা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার চালিকাশক্তি।
এই উপলব্ধিকে সামনে রেখে, বাংলাদেশ সরকার, অস্ট্রেলিয়া সরকারের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য দপ্তরের (DFAT) অর্থায়নে পরিচালিত Social Protection Policy Support (SPPS) প্রোগ্রামের আওতায়, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO) ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (UNDP) কারিগরি সহায়তায়, জাতীয় সামাজিক বীমা স্কিম (NSIS)-এর আওতায় মাতৃত্ব বীমা চালুর রোডম্যাপ প্রণয়নের লক্ষ্যে ঢাকায় একটি কর্মশালার আয়োজন করে।
এই কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন:
- শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়
- স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়
- অর্থ মন্ত্রণালয়
- মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়
- মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ (সমন্বয় ও সংস্কার শাখা)
- সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়
- বাংলাদেশ নিয়োগদাতা ফেডারেশন
- বিজিএমইএ, বিকেএমইএ
- শ্রমিক সংগঠনসমূহ (NCCWE, IndustriALL, BILS, OSHE Foundation, WRC Bangladesh)
- জাতিসংঘ সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, নাগরিক সমাজ ও গবেষকবৃন্দ।
কর্মশালার মূল লক্ষ্য ছিল:
- আন্তর্জাতিক মাতৃত্ব সুরক্ষা মান ও জাতীয় কাঠামো সম্পর্কে অংশীজনদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি;
- বাংলাদেশের মাতৃত্ব সুবিধা ব্যবস্থায় বিদ্যমান ফাঁকফোকর চিহ্নিতকরণ;
- NSIS-এর আওতায় মাতৃত্ব বীমা চালুর একটি খসড়া রোডম্যাপ সহ-উন্নয়নের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক সংলাপের আয়োজন।
আলোচনায় উঠে আসে ILO-এর মানদণ্ড, বৈশ্বিক মাতৃত্ব বীমা চর্চা, আইনি ও নীতিগত কাঠামো, এবং অর্থায়নের বিভিন্ন দিক।
প্রধান অতিথি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব এ এইচ এম শফিকুজ্জামান একটি অবদানভিত্তিক বীমা মডেল প্রস্তাব করেন যা টেকসই হবে এবং শ্রমিকদের মালিকানা বোধ তৈরি করবে। তিনি বাংলাদেশ শ্রম কল্যাণ তহবিল (BLWF)-এ অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের অন্তর্ভুক্তির ওপর জোর দেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জনাব খালেদ হাসান কার্যকর সমন্বয় এবং একীভূত প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রোগ্রামের পুনরাবৃত্তি রোধ ও সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের উপর গুরুত্বারোপ করেন।
এই উদ্যোগ টার্গেট 1.3 এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ, যা সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার কথা বলে – বিশেষত সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণদের জন্য।
শক্তিশালী মাতৃত্ব সুরক্ষা মানেই একটি সুস্থ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সক্ষম কর্মশক্তি।

