বাংলাদেশে ফ্রান্স দূতাবাস গত রবিবার ঢাকায় উদযাপন করেছে ফরাসি জাতীয় দিবস। এই আয়োজনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, ব্যবসায়ী এবং সাংবাদিকগণ অংশগ্রহণ করেন—সবাই একত্রিত হন স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের চেতনা উদযাপন করতে
দূতাবাসটি ফরাসি পতাকার রঙে উৎসবমুখরভাবে সজ্জিত ছিল।
প্রতি বছরের মতোই ফরাসি ভাষা প্রচারের অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষার্থীকে “অ্যাম্বাসেডরের প্রাইজ” প্রদান করা হয়।
খাদ্য ও ভূমি বিষয়ক উপদেষ্টা জনাব আলী ইমাম মজুমদার এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
নিজের বক্তব্যে মাননীয় রাষ্ট্রদূত মারি মাসদুপুই ২৩৬ বছর আগে বাস্তিল দুর্গ আক্রমণের ঐতিহাসিক ঘটনার কথা স্মরণ করেন—যা ছিল ফরাসি বিপ্লবের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তিনি বাংলাদেশের বিগত বছরের জুলাই মাসের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সঙ্গেও এর মিল খুঁজে দেখান। “আপনারা যে মূল্যবোধের জন্য সংগ্রাম করেছেন, সেগুলো আমাদেরও চেনা।”
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন:
“গণতন্ত্র মানেই স্বাধীনতা, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব এবং অন্তর্ভুক্তি। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতাও এর অপরিহার্য অংশ। এবং এগুলোর সাথে অবশ্যই ন্যায়বিচারের সমন্বয় থাকা চাই।”
ফ্রান্সের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও কৌশলগত স্বনির্ভরতার পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়। এছাড়াও, আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তন পর্যবেক্ষণে স্যাটেলাইট প্রযুক্তি নিয়ে আসন্ন সহযোগিতার ঘোষণা দেন রাষ্ট্রদূত।

